কেন্দুয়া প্রতিনিধি : নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা বাজার এলাকা থেকে মাদ্রাসাগামী এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগের পাঁচ দিন পর কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রিপন মিয়া নামে এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার ৭ নম্বর মাসকা ইউনিয়নের মাসকা বাজারে আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা কওমী মাদ্রাসার সামনের পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় রিপন মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদীর দুই মেয়ে মাসকা বাজারের আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা কওমী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। ঘটনার দিন সকালে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার ছোট বোন মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা হয়। তারা মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা রিপন মিয়া অন্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় কিশোরীকে জোরপূর্বক একটি পিকআপে তুলে নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। দীর্ঘ সময়েও মেয়ের সন্ধান না পেয়ে পরে থানায় মামলা করেন কিশোরীর বাবা।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সঙ্গে বাদী ও তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিরোধের জেরে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজছিলেন অভিযুক্তরা—এমন দাবি করা হয়েছে মামলায়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত রিপন মিয়া বিভিন্ন সময়ে কিশোরীকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানানো হলেও তাঁরা গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর কিশোরীকে উদ্ধারে পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। একপর্যায়ে অভিযান চালিয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় রিপন মিয়াকেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কিশোরী উদ্ধারের পর তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কিশোরী উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে মামলায় উত্থাপিত অপহরণ, প্রস্তাব দেওয়া বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার আগে সেগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে
মন্তব্য করুন