রোহিঙ্গাসংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট উল্লেখ করে এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি নিজ দেশে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখার ব্যাপারে জাপানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।’ গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিয়ানমারে ন্যাশনাল রেকনসিলিয়েশন-বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত, নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের বিশেষ দূত সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলেও প্রধানমন্ত্রী জাপানের বিশেষ দূতকে অবহিত করেন। কারণ নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁর অবস্থান থেকে রোহিঙ্গাসংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
বৈঠকে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, প্রায় ৫০ বছর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রেকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। রোহিঙ্গাসংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তাঁর সঙ্গে মিয়ানমার প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এ সংকটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে।
এদিকে বৈঠকে রোহিঙ্গাসংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সমর্থন অব্যাহত রাখবে সুইজারল্যান্ড : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুইজারল্যান্ডের সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত রেতো রেঙ্গলি। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুইজারল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থনের কথা জানান এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন।
Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)
⏳ প্রসেসিং হচ্ছে...
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
১
ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধনকে ধ্বংসের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে চক্রান্তকারীরা: রিজভী
২
বাকৃবি অফিসার পরিষদের নেতৃত্বে গোলাপ-শাহাদাত
৩
শেরপুরে আগুনে সর্বস্ব হারাল ২ পরিবার
৪
সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেলে রোগীর ‘রহস্যজনক’ মৃত্যু, নথিপত্র গায়েবের অভিযোগ