রপুরের ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা নালিতাবাড়ী। সীমান্তের ওপারেই ভারতের মেঘালয়। যেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সবসময়ই বেশি। ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল নালিতাবাড়ী ভোগাই নদ বেয়ে ক্ষতি করছে বিস্তীর্ণ এলাকার। ভাঙন কবলিত হয়ে ভিটেমাটি ছাড়া হচ্ছে মানুষ। মানুষের দাবি ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার।
বর্ষা এলেই পাহাড়ি ঢলের তোড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নদীপাড়ের মানুষ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভয়াবহ নদীভাঙন। নালিতাবাড়ীর হাতিপাগার, নয়াবিল, খালভাঙ্গা, কেরেঙ্গাপাড়া ও দক্ষিণ কোন্নগরসহ দীর্ঘ এলাকার আবাদি জমি, গাছপালা ও রাস্তাঘাট চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। একইভাবে চেল্লাখালী নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারাচ্ছেন পোড়াগাঁও, নন্নী, বাঘবেড় ও কলসপাড় এলাকার শত শত পরিবার। বাধ্য হয়ে নদীপাড়ের অনেক মানুষ কেটে ফেলছেন গাছপালা, সরিয়ে নিচ্ছেন বসতঘর।
ভাঙনের এই স্থায়ী সমাধানে ব্লক আর জিওব্যাগ ফেলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। নদী ভাঙন রোধে বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই আগাম কাজ শুরুর দাবি তাদের। নদী ভাঙনের কবল থেকে বাঁচতে বসতভিটা সরিয়ে ও গাছপালা কেটে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে নদী পারের মানুষেরা। তাদের জমি রক্ষায় দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর নদী তীররক্ষা কাজ ত্বরান্বিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর সার্বিক চিত্র আমরা পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আগামী শুকনো মৌসুমেই স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নদীভাঙন রোধে এখনই জরুরি ও স্থায়ী পদক্ষেপ না নিলে আগামী বর্ষায় আরও বিস্তৃত এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভিটেমাটি রক্ষা করে নদীর পাড়ে নিরাপদ বাসস্থানের সুযোগ করে দেওয়াই এখন নদীপাড়ের হাজারো মানুষের প্রাণের দাবি।
মন্তব্য করুন