নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাঁর পক্ষ থেকে নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে নগদ অর্থ ও পোশাক তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে নিহত সাংবাদিকের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে নিহত সাংবাদিকের পরিবারের কাছে এসব সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

 

 

নিহত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে পরিবারটি। এ অবস্থায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগকে তাঁরা সহমর্মিতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

নিহত লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪০) রূপসী বাংলা (আইপি) টেলিভিশনের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে দুর্গাপুরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলিফ ফকির নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনুই গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মহব্বত আলী ফকির। তিনি পরিবার নিয়ে দুর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি সাবেক সেনাসদস্য ছিলেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধবিষয়ক ভিডিও প্রকাশ করতেন।

স্বামীকে হারিয়ে শোকাহত আনন্দিতা সাংমা বলেন, আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। যারা আমার দুই বাচ্চাকে এতিম করেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভুঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিরা যাতে আইনের আওতা এড়িয়ে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। দলীয়ভাবে তাঁরাও এই পরিবারের পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।

 

 

সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার, বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী এম এ জিন্নাহ, অধ্যক্ষ শহীদ খান, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল করিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা মজিবুর মাস্টার, স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মৃত্যুর ঘটনায় দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।