ময়মনসিংহের ভালুকায় পৃথক ঘটনায় বিল্লাল হোসেন (৪৫) ও কবির খান (৪৫) নামে দুই ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিল্লাল হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। অন্যদিকে, কোমল পানীয় মনে করে ভুলবশত স্পিডের বোতলে থাকা বিষাক্ত তরল পান করে কবির খানের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। রোববার (১ নভেম্বর) উপজেলার ঢাকুরিয়া ও বান্দিয়া গ্রামে পৃথক এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকুরিয়া গ্রামের দরবেশের ছেলে কাঁচামাল ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে তামাট বাজার থেকে ভ্যানে করে বাটাজোর বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে এক বাক্প্রতিবন্ধী নারী (৪০) ওই ভ্যানে ওঠেন। এ সময় নারীর বোরকার কাপড় ভ্যানের চাকার সঙ্গে আটকে যাওয়ার আশঙ্কায় এক পথচারী তাঁকে সতর্ক করেন। নারীটি শুনতে না পাওয়ায় বিল্লাল তাঁর বোরকার কাপড় টান দিলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।
পরে বাটাজোর সোনার বাংলা কলেজের সামনে একটি দোকানের কাছে ভ্যানটি থামলে ওই নারী ভ্যান থেকে নেমে বিল্লালকে জুতা দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর বিল্লাল বাড়িতে ফিরে যান। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুর দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, বিল্লালের পা, গলা, বুক ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মৃত্যুর পর তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল বলেও জানান তাঁরা।
বিল্লালের ভাগ্নে সজীব বলেন, মামার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে তাঁদের ধারণা, আঘাতের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
এদিকে, উপজেলার বান্দিয়া গ্রামের জনদর আলী খানের ছেলে কবির খানের বাড়ির পাশেই একটি মনোহারি দোকান ছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করার সময় তিনি দোকানের বাইরে একটি চৌকির ওপর স্পিড পানীয়ের বোতল দেখতে পান। বোতলের ভেতরের তরল কোমল পানীয় মনে করে তিনি তা পান করেন। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে ভালুকা সরকারি হাসপাতালে এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
কবির খানের ভাগ্নে মেহেদী হাসান জানান, মৃত্যুর আগে তাঁর মামা বলেছিলেন, বোতলটি কেউ ভুলে ফেলে গেছে মনে করে তিনি সেটির ভেতরের তরল পান করেছিলেন। তাঁর ধারণা, বোতলে ঘাস মারার বিষ থাকতে পারে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, বিল্লাল হোসেন বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে, কবির খানের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফনের অনুমতি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
পৃথক দুটি মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও পরিস্থিতি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন