
যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ, তাঁদের কবর জিয়ারত এবং ‘তেলিখালী দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হালুয়াঘাটের ঐতিহাসিক তেলিখালী স্মৃতিচারণ চত্বরে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মীরজা নজরুল ইসলাম বেগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মণ্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কাজীম উদ্দিন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম আমজাদ আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতার বিনিময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, তেলিখালী যুদ্ধ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের বীরত্বপূর্ণ অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সর্বস্তরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা বাড়াতে হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ধারণ করে দেশপ্রেম, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সুন্দর, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
এ সময় তিনি তেলিখালী যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা তেলিখালী যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা মহান মুক্তিযুদ্ধে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত অতিথিরা।
মন্তব্য করুন