জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ময়মনসিংহের ১১টি আসনে ভোটের হাওয়া বইছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রার্থীরা নানান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের পক্ষে ভোট টানতে তৎপর হয়েছেন। ভোটাররাও পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। তবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় অনেক ভোটার।
এই জেলার আসনগুলোতে বিএনপি, স্বতন্ত্র ও জামায়াত জোটের প্রার্থীদের মধ্যে লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যিনি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী, ভোটাররা তাকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে তারা ভোটকেন্দ্র শান্তিপূর্ণ রাখার প্রত্যাশা করেন।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ময়মনসিংহের ১ হাজার ৩৬৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৮৩টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে সাধারণকেন্দ্র হিসেবে রয়েছে ৭৮২টি। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৪৩ শতাংশ কেন্দ্রেই বিশেষ নজরদারি ও বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণকেন্দ্র ত্রিশাল ও ভালুকায়। উভয় উপজেলায় ৭২টি করে কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সদরে ৬৫টি এবং পাগলা থানায় ৫৮টি কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অন্য উপজেলার মধ্যে ফুলবাড়িয়ায় ৫০টি, ঈশ্বরগঞ্জে ৪৭টি, নান্দাইলে ৪৩টি এবং গৌরীপুরে ৪২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হালুয়াঘাটের ২০টি, ধোবাউড়ায় ২৫টি, ফুলপুরে ১৯টি, তারাকান্দায় ২৯টি, মুক্তাগাছায় ১৯টি এবং গফরগাঁওয়ে ২২টি কেন্দ্র।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরখরিচা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে চাই। সেখানে যাওয়ার পর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সাধারণ ভোটাররা ভয় পাবে। এতে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমবে।’
মুক্তাগাছার চেচুয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। প্রভাবশালীরা কেন্দ্র দখলের জন্য লোকজন নিয়ে এসে হামলা চালায়। এ বিবেচনায় কেন্দ্রটি ঝুঁকিপূর্ণ। এই কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার দাবি জানাচ্ছি।’
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় রাখা কেন্দ্রগুলো আলাদা নজরদারিতে থাকবে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।’
ময়মনসিংহের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারবেন। কোনো কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কঠোরভাবে দমন করবে।’

