ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কৈচাপুর ও জুগলী ইউনিয়নে সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সোমবার বিকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
এসময় তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বর্ননা দেন এবং দ্রুত পর্যাপ্ত পুণর্বাসন সহায়তা প্রদান করার আহবান জানান । মন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ী ,ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন ।
পরিদর্শনকালে প্রিন্স ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সাথে কথা বলেন ও তাদের মাঝে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন ।
তিনি বলেন , দুইদিন আগে অমরা আনন্দের সাথে ঈদ উল ফিতর উদযাপন করেছি । কিন্তু ঘূর্ণি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানূষের মনে ঈদের আনন্দ ছিলোনা, বেদনা বিধুর পরিবেশে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ ঈদ উদযাপন করেছে ।
তিনি আরও বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে । আমরা এই মানবিক সংকটে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। টেকসই পুনর্বাসনের জন্য সরকার জরুরি উদ্যোগ নিয়েছে। দুর্যোগের শুরু থেকেই সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ।
তিনি বলেন , “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই দুর্গত মানূষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন । সে কাজ চলছে । প্রশাসনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সরকারি ত্রাণ, শুকনো খাবার, নগদ সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যেন সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।”
এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা ধৈর্য ধরুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের এই কষ্টের দিন শেষ হবে। তারেক রহমান জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন । তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় তাদের পাশে আছে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।” তিনি বলেন , ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের ঘরে ঘরে যেনো পূর্বাসনের সহায়তা পৌছায় , সেই চেষ্টা আমি করবো ।”
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সরকারে থাকুক বা বিরোধী দলে—যে অবস্থানেই থাকুক না কেন, বিএনপি সব সময় অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই বিএনপি মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের অঙ্গীকার। এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে তাদের পুনর্বাসনে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো।
স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে, মসজিদ , মাদরাসা , মন্দির , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।
উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত)জান্নাত উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম ,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশীষ কর্মকার , কৈচাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শাজাহান ,উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর ,আমতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান ,ধারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, যুগলী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল আমিন , উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলী আশরাফ ,কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ ,বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ আশরাফ হোসেন , কৈচাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক সায়েদুর রহমান , সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম ,জুগলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল জলিল ,সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার, জেলা যুব দলের সহ সভাপতি তারিকুল ইসলাম চঞ্চল ,আসাদুজ্জামান আসিফ ,উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি অনোয়ার হোসেন ,সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান , তাঁতী দলের সভাপতি আকিকুল ইসলাম , পৌর ছাত্র দলের সদস্য সচিব তাজবির হোসেন অন্তর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।


