নেত্রকোনার বারহাট্টার সাহতা ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মোমিন খানকে স্থানীয় সালিশে মাথা ন্যাড়া করে অপমানের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, গত ২৯ জুলাই স্থানীয় একটি সালিশে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি। এ ঘটনায় বারহাট্টা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই রাতে সাহতা ইউনিয়নের হেলোচিয়া বাজারের একটি চায়ের দোকানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় মোমিন খান একটি মন্তব্য করেন। সেই বক্তব্য বিকৃত করে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় স্থানীয় কিছু লোক মিছিল নিয়ে তাঁর বাড়িতে যান। তাঁকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের পর দিন সালিশে উপস্থিত হওয়ার কথা বলা হয়। উপস্থিত না হলে বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পর দিন ২৯ জুলাই বেলা ১১টার দিকে মধুপুর এলাকার আল-আরাফা মিফতাহুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়। সেখানে মোমিন খান উপস্থিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরপর সালিশের সিদ্ধান্তের নামে প্রকাশ্যে তাঁর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে ফেরার পরও তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় গত বুধবার বারহাট্টা থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিয়েছেন মোমিন খান। অজ্ঞাতপরি আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
বারহাট্টা থানার ওসি চম্পক দাম বলেন, দুপক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন