ফুলবাড়ীয়া প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ১ নম্বর নাওগাঁ ইউনিয়নের সন্তোষপুর সংরক্ষিত বনভূমিকে সরকারি ‘সন্তোষপুর ইকোপার্ক’ ঘোষণা করায় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও আশাবাদ। ইকোপার্ক ঘোষণাকে ঘিরে পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় ৫৬৫ দশমিক ৪৫ একর বা ২২৮ দশমিক ৯২ হেক্টর ভূমি নিয়ে ‘সন্তোষপুর ইকোপার্ক’ ঘোষণা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে একদিকে বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।
গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে ফুলবাড়ীয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক ও ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করছেন।
নাওগাঁ ইউনিয়নের কৃতী সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “সন্তোষপুর ইকোপার্কের সরকারি স্বীকৃতি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বনভূমি সংরক্ষণের যে প্রত্যাশা ছিল, তা আজ বাস্তবরূপ পেল। এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি পর্যটনের বিকাশ, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”
তিনি এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।
উপজেলা বন কর্মকর্তা এমদাদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন,“২২৮ দশমিক ৯২ হেক্টর ভূমি নিয়ে সন্তোষপুর ইকোপার্কের সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। এটি এলাকার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি উদ্যোগ।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম সোহাগ গণমাধ্যমকে বলেন,“সন্তোষপুর ইকোপার্ক ঘোষণা-সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন আমরা পেয়েছি। এটি ফুলবাড়ীয়াবাসীর জন্য অত্যন্ত সুখবর। পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইকোপার্ক ঘোষণার ফলে সন্তোষপুরের বনাঞ্চল আরও সুরক্ষিত হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগমন বাড়লে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি সৃষ্টি হতে পারে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, যথাযথ পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সন্তোষপুর ইকোপার্ককে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এর ফলে ফুলবাড়ীয়া শুধু ময়মনসিংহ নয়, দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পরিবেশবান্ধব পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পারে।
তাঁদের মতে, ইকোপার্কটির উন্নয়ন পরিকল্পনায় বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিরও টেকসই বিকাশ সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন