নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি: : শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে অনশনে বসেছেন তারাগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী হোসেন আলী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত থেকে বিদ্যালয়ের ফটকের পাশে অবস্থান নিয়ে তিনি অনশন শুরু করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সেখানে জড়ো হন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ফটকের পাশে চাদর বিছিয়ে শুয়ে রয়েছেন হোসেন আলী। এ সময় স্থানীয় ১০-১৫ জন নারী-পুরুষ তাঁর দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। তখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি বলে জানান উপস্থিত ব্যক্তিরা।
হোসেন আলী বলেন, গত ১৪ বছর ধরে তিনি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, গত নয় বছর ধরে তাঁকে কোনো বেতন-ভাতা দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ওই কক্ষ ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে বলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তাঁর বেতন-ভাতা পরিশোধ করে দিলে তিনি কক্ষটি ছেড়ে চলে যাবেন।
হোসেন আলীর আরও অভিযোগ, গত ২৬ জুলাই বিদ্যালয়ের একটি সাইকেল চুরির অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খোকন ও কর্মচারী আকাব্বর তাঁকে একটি চেয়ারে বেঁধে মারধর করেন। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং এ ঘটনায় তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হোসেন আলীর স্ত্রী নাজমা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, সাইকেল চুরির অভিযোগে তাঁর স্বামীকে তৌহিদুল ইসলাম খোকনসহ কয়েকজন দড়ি দিয়ে একটি চেয়ারে বেঁধে একটি কক্ষে আটকে মারধর করেন। তিনি দরজা খুলতে বললেও তা খোলা হয়নি বলে অভিযোগ করেন নাজমা। তাঁর আরও দাবি, মঙ্গলবার বিকেলে তাঁদের চলাচলের রাস্তার গেটেও তালা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজিম উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, হোসেন আলীকে তিনি ছোটবেলা থেকেই চেনেন। তিনি দরিদ্র ও ভূমিহীন। তাঁর অভিযোগ, হোসেনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগটি সঠিক নয় এবং নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খোকন।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আপত্তিকর কিছু জিনিস পাওয়ার পর তৎকালীন প্রধান শিক্ষক হোসেন আলীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। এরপর থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হোসেন আলী জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে অবস্থান করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সাইকেল চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, সম্প্রতি বিদ্যালয়ের একটি সাইকেল চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিষয়টি থানায় জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে হোসেন আলীকে নিয়ে যায়। তাঁকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই হোসেন আলী অনশন শুরু করেছেন।
হোসেন আলীর বেতন-ভাতা পাওনা আছে কি না, ২০১৯ সালে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়টি এবং সাইকেল চুরির অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফল পাওয়া গেলে বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে। বর্তমানে উভয় পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
মন্তব্য করুন