ভালুকা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে করা বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন জমির মালিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে ভালুকা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা দাবি করেন, এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁরা এসব অভিযোগের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকদের পক্ষে তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, আব্দুল হান্নান ঢালীর ছেলে রিমেল, জাকির হোসেনের স্ত্রী হালিমা আক্তার, তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারের স্ত্রী আসমাউল হোসনা, আলম ও মাহফুজসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার বলেন, সম্প্রতি এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে, সেগুলো সঠিক নয়। এ ঘটনার সঙ্গে এমপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির কোনো ওয়ারিশ দলিল ভাওয়াল কনস্ট্রাকশনের নামে দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, শাকিল ঢালী ও হেলাল উদ্দিন শেখের মধ্যস্থতায় উজ্জল, সেলিনা ও রাবেয়ার কাছ থেকে ভালুকা উপজেলার বাশিল মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ৩৩৯-এর ২৩৭, ২৩৯, ২৪১, ২৪৮ ও ২৫১ নম্বর দাগের মোট ২ একর ৯৬ শতাংশ জমি সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করা হয় এবং পরে এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নামে নামজারি করা হয়।
তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার আরও দাবি করেন, জমি কবলার পর এমপি বা তাঁর লোকজন তাঁদের ওপর কোনো ধরনের অত্যাচার বা নির্যাতন করেননি। তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে ওই জমি ভোগদখলে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মামুনসহ একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তাঁদের দিয়ে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করিয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁর ভাইদের প্রথমে বাশিলের বাড়ি থেকে মাস্টারবাড়ি নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করানো হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শাকিল হোসেন ঢালী বলেন, তিনি জমিটি এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর কাছে বিক্রি করেছেন। তাঁর দাবি, জমি কেনার সময় এমপি জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেননি এবং তাঁদের কথার ওপর বিশ্বাস করে জমি কিনেছেন। তিনি নিজেও জমিতে কোনো সমস্যা আছে বলে জানতেন না বলে দাবি করেন। জমির দলিলপত্র ঠিক আছে, শুধু দখল নেই—দাতারা তাঁকে এমনটাই জানিয়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে মোস্তাফিজুর রহমান মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, মঙ্গলবার ঢাকায় এবং বুধবার ভালুকায় আয়োজিত দুটি সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাউকেই ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এমপি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে বিষয়টি সঠিকভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তবে জমি নিয়ে বিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা হলো।
মন্তব্য করুন