শেরপুরের নকলায় পাঠাকাটা ইউনিয়নে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৩২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’ (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের বুরুডুবি কামরুলের বাড়ির সামনে থেকে গোদাডাঙা হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। এ জন্য মোট ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ৮৩২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রকল্পের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। কাজ শেষে বরাদ্দের অব্যয়িত ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৩২ টাকা মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বরাদ্দের অর্থ থেকে সব খরচের পর ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৩২ টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেন নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম।
প্রকল্পের আওতায় ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের পাশাপাশি, খালের দুই পাশে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল, সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতি।

এ ছাড়া খালটির স্থায়িত্ব ও স্থানীয় মানুষের ব্যবহার উপযোগিতা বাড়াতে ২৮টি রিং পাইপ, ৪৮টি পিভিসি পাইপ এবং ৬০ মিটার ড্রাম শিট প্যালাসাইডিং করা হয়েছে। এসব অবকাঠামোর ফলে খালের দুই পাশের মানুষের চলাচল, কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ এবং পানি নিষ্কাশন সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বেপারি পাড়ার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, খোরশেদ আলম, রফিকুল ইসলাম বলেন, এখানে জলাবদ্ধতায় বছরে একবার ধানের আবাদ করা যেতো। কিন্তু এখন তিন ফসল আবাদ করা যাবে। কারণ এখন আর জলাবদ্ধতা নেই। তাছাড়া পাড়ের গাছগুলো বড় হলে স্থানীয়দের অনেক উপকার হবে।
নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও প্রকল্পের সদস্যসচিব মো. আনোয়ার হোসেন শামীম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের প্রকল্পের কাজ গত ১২ মে শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২১৬ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেছেন। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভালোভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছি। খাল পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষক, জেলে ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমীন জাগো নিউজকে বলেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর থেকেই ওই এলাকার সাধারণ মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং পর্যাপ্ত দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া স্বচ্ছতার একটি ভালো দৃষ্টান্ত।
মন্তব্য করুন