ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কাস্টমসের নিরাপত্তাকর্মী আবু রায়হান তালুকদার হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোয়াইতপুর গ্রামের রাজু মির্জা ও অনন্তপুর গ্রামের সোহেল মির্জা জিতুল। তাদের দুজনের মধ্যে রাজু মির্জা ছিলেন নিহত আবু রায়হান তালুকদারের বাড়ির কেয়ারটেকার।
পুলিশ জানায়, কাস্টমসের সিপাহি আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় হত্যাকারীরা। এতে রাকিব ঘুমিয়ে পড়লে মাথায় বড় লোহার রড দিয়ে আঘাতে হত্যা করে। পরে টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার খাটিয়ায় ফেলে চাপাতি দিয়ে লাশ ১৫ টুকরা করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার এস এম হাসান ইস্রাফীল জানান, মামলার পর পুলিশকে আসামিদের ধরতে বেশ বেগ পেতে হয়। গত ১ আগস্ট থেকে পুলিশ আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। তাদের অবস্থান নিশ্চিতের পর ফুলবাড়িয়া থানার পুলিশ শ্রীমঙ্গলে কয়েকদিন অবস্থান করে আসামি রাজু ও জিতুকে গ্রেপ্তার করে। গত বুধবার নিহত আবু রায়হানের বাড়ি সোয়াতপুর ও বাবুগঞ্জ এলাকা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি চাকু, চাপাতি, রড ও খাটিয়া উদ্ধার করে পুলিশ।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রধান আসামি রাজু মির্জা প্রায় চার বছর ধরে আবু রায়হানের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার রাতে আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পান করান রাজু। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয় এবং ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেয়। এরপর আসামি সোহেল মির্জা জিতুলের সহযোগিতায় লাশ টয়লেটে নিয়ে গরুর মাংস কাটার খাটিয়ায় রেখে ১৫ টুকরা করে। খণ্ডিত লাশ তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও কাপড়ে পেঁচিয়ে বাড়ির পূর্ব পাশে পরিত্যক্ত ডোবায় ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখে।
পুলিশ জানায়, কাস্টমসের নিরাপত্তাকর্মী আবু রায়হান তালুকদার ঢাকার কমলাপুর শাখায় নিরাপত্তা শাখায় চাকরি করতেন। প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়ি এসে শনিবার ভোরে ঢাকায় চলে যেতেন। সর্বশেষ ২৩ জুলাই বাড়িতে আসেন এবং ২৪ জুলাই বিকেলে নিখোঁজ হন। ২৭ জুলাই রাতে তার বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা ও তার চাচাতো ভাই জিতুল গাঢাকা দেয়।
মন্তব্য করুন