বারহাট্টা প্রতিনিধি : সরকারি ছুটির দিনে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ বই সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বইগুলোর গন্তব্য, পরিবহনের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরকারি ছুটির দিন হলেও বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ভ্যানে করে বিপুল পরিমাণ বই বের করে বারহাট্টা বাজারের প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে বোঝাই করতে দেখা যায়।
ঘটনাস্থলে বই পরিবহনের কাজে নিয়োজিত এক ভ্যানচালকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তারা ভাড়ায় চালিত গাড়ির চালক। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বইগুলো এনে ট্রাকে বোঝাই করা হচ্ছে। তবে বইগুলো কোথায় নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
অফিসের সামনে থাকা এক ব্যক্তির কাছে বইগুলোর গন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে গণমাধ্যমকে জানান, বইগুলো নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নেওয়া হচ্ছে। তবে ক্যামেরার সামনে একই বক্তব্য দিতে বলা হলে তিনি আর কোনো বক্তব্য না দিয়ে প্রতিবেদককে অফিসের ভেতরে নিয়ে যান।
পরে অফিসে থাকা সেলিম শেখ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কর্ণফুলী পেপারস মিলের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান, পুরোনো বই সংগ্রহ করে নতুন কাগজ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে।
তবে কিছুক্ষণ পর তিনি আবার গণমাধ্যমকে জানান, বইগুলো প্রথমে নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নেওয়া হবে। সেখানে হিসাব-নিকাশ শেষে বইগুলো ঢাকায় পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ট্রাকচালকের সঙ্গে কথা বললে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, গাড়িটি কোথায় যাবে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বই বোঝাইয়ের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের কাছ থেকেও মালামালের গন্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক লতিফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দুই দিন আগে নেত্রকোনা থেকে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব স্যার এ বিষয়ে কথা বলে গেছেন।
পরে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সরকারি ছুটির দিনে এভাবে বই নেওয়া উচিত নয়। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে গাড়িটি আটকে রাখার কথাও বলেন তিনি।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই নেওয়া যাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই কোনো অবস্থাতেই নেওয়া যাবে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ফাইল ও পুরোনো খাতাও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় বইগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, কার নির্দেশনায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এ ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এসব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, সরকারি ছুটির দিনে সরকারি দপ্তর থেকে বিপুল পরিমাণ বই ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানান।
তবে বই পরিবহনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা এবং ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন