নিজস্ব প্রতিনিধি : অপসংস্কৃতির প্রভাব থেকে নতুন প্রজন্মকে দূরে রেখে শেকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে ময়মনসিংহে আয়োজন করা হচ্ছে বাউল গানের আসর ‘ভাব তরঙ্গ’। ইতোমধ্যে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন সচেতন সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে।
ময়মনসিংহ নগরীর ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে জয়নুল উদ্যানের ব্যাটবল চত্বর বধ্যভূমি প্রাঙ্গণে প্রতি মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার নিয়মিত বসছে এই বাউল গানের আসর। ‘দেশীয় সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ’ আয়োজনটির উদ্যোক্তা। মাটির কাছাকাছি থেকে বাউল সাধকদের দর্শন ও মানবতাবাদী ভাবধারা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
ইতোমধ্যে ‘ভাব তরঙ্গ’-এর দুটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১০ জুলাই লালনগীতি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আসরটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় পর্ব ‘জালাল পর্ব’। এ পর্বে বাউল সাধক জালাল উদ্দীন খাঁর দেহতত্ত্ব ও সৃষ্টিতত্ত্বের গান পরিবেশন করেন স্থানীয় বাউল শিল্পীরা।
আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয়েছে, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ‘ভাব তরঙ্গ’-এর তৃতীয় পর্ব ‘করিম পর্ব’। এতে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের কালজয়ী গান পরিবেশন করবেন শিল্পীরা।
আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ‘সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ’-এর সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সংস্কৃতির একটি অংশ বর্তমানে বাণিজ্যিক বিনোদনকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় শেকড়ের সংস্কৃতির প্রকৃত রূপ ও চর্চা অনেক ক্ষেত্রে আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। বাউল সাধকদের সাম্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতার দর্শন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তাঁরা এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
‘ভাব তরঙ্গ’-এর আয়োজনের ধরনেও রয়েছে ভিন্নতা। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক যান্ত্রিকতা ও কৃত্রিম আড়ম্বর এড়িয়ে গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী আবহ বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে মাটিতে বসেই শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। দোতারা, একতারা ও বেহালার সুরের সঙ্গে খালি গলায় বাউল গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তৈরি হয় লোকজ আবহ।

আয়োজনে অংশ নেওয়া দর্শক-শ্রোতারাও এই সহজিয়া পরিবেশনা উপভোগ করছেন। তাঁদের অনেকেই এমন আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন।
ইমতিয়াজ আহমেদ গণমাধ্যমকে আরও বলেন, সংস্কৃতি একটি জাতির জীবনাচার, রীতিনীতি, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, চিন্তা-চেতনা ও নিজস্ব ইতিহাসের বহিঃপ্রকাশ। জাতিগঠনে সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নিজেদের সমৃদ্ধ সহজাত ও স্বকীয় শেকড়ের সংস্কৃতির বিকাশে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন