কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে হাসপাতালটিতে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে সেবা। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এক্স-রে মেশিনের দায়িত্বে থাকা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদটিও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর পাশাপাশি এক্স-রে মেশিনটি বছরের পর বছর ধরে অকেজো থাকায় হাসপাতাল থেকে রোগীদের এ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষটি বর্তমানে কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা নির্মূলে কাজ করা বেলজিয়ামভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ডেমিয়েন ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে শতাধিক রোগীর ভিড়। তাঁদের মধ্যে অনেক রোগীকেই অন্যান্য পরীক্ষার পাশাপাশি এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। হাসপাতাল থেকে এক্স-রে করার সুযোগ না থাকায় তাঁদের বাইরে যেতে হচ্ছে।
পুরুড়া গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মানিক মিয়া বলেন, ‘মেশিন নষ্ট থাকায় হাসপাতালের বাইরে থেকে হাতের এক্স-রে করাতে হয়েছে। এতে ৪০০ টাকা খরচ হয়েছে। হাসপাতালে এক্স-রে করতে পারলে অনেক কম টাকা লাগত।’
জাওয়ার গ্রামের রুশিয়া বেগম বলেন, ‘বুকের এক্স-রে করাতে হয়েছে। হাসপাতালে এক্স-রে হয় না। তাই ৪০০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে করাতে হয়েছে। আবার বাড়ি গিয়ে টাকা জোগাড় করে এসে কাজটি করতে হয়েছে।’
স্থানীয় রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে সেবা চালু থাকলে স্বল্প খরচে পরীক্ষা করানো সম্ভব হতো। মেশিনটি দ্রুত সচল করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এ বিষয়ে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অতীশ দাস রাজীবের বক্তব্য জানতে বুধবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর এ একাধিকবার ফোন করা হয় এবং হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন