কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ানো গেলে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ‘এক দেশ এক কিউআর, লেনদেন বাংলা কিউআর’ স্লোগানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মোস্তাকুর রহমান বলেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা দিলে মার্চেন্টও ১০০ টাকা পাবেন। বর্তমানে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিউআর কোড সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।
‘বাংলা কিউআর’-এর বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের লেনদেন করা সম্ভব হওয়ায় খুচরা টাকার সমস্যাও থাকবে না। একই সঙ্গে লেনদেনের খরচ কমবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা একসময় ১০ শতাংশ ছিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেন ও ‘বাংলা কিউআর’ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। গভর্নর এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
মন্তব্য করুন