দেশের বিমানবহর সম্প্রসারণ করে ২০০টিরও বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন উড়োজাহাজ দেশে আসা শুরু হবে। এ প্রক্রিয়া ২০৩৬ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত চলতে পারে।
একই সঙ্গে ময়মনসিংহবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিশালে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এ ধরনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর সারিন্দা সবারি রিসোর্টে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
বিমানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের বিমানবহরে থাকা উড়োজাহাজগুলো একসময় পুরোনো হয়ে যাবে। তখন বিমান পরিবহনব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে নতুন উড়োজাহাজের প্রয়োজন হবে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
মন্ত্রী জানান, নতুন উড়োজাহাজ দেশে আসার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ২০৩১ সাল থেকে। পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সেগুলো দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিমানবহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দেশে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেন মন্ত্রী। এসব গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় স্লট নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ময়মনসিংহবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিশালে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ময়মনসিংহে বিমানবন্দর হওয়া প্রয়োজন। তবে ত্রিশালে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ একটি বড় প্রকল্প হওয়ায় এতে সময় লাগবে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল, অর্থায়ন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিক বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহ নগরীতে শিশুপার্ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী ঈদের আগে শিশুপার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। পরের বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সময় পার্কটি পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিরিশিরিকে জাতীয় পর্যায়ের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ, বৃহত্তর ময়মনসিংহে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথাও বলেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যৎ। জাতীয়তাবাদী দল যত দিন সরকারে থাকবে, তত দিন মেধার ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মো. জাকির হোসেন বাবলু এবং ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুলাহেল মাজেদ।
মন্তব্য করুন