রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের ভালুকা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান নিখোঁজ তুষীর মা। এ সময় তিনি মেয়েকে উদ্ধার, অপহরণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তুষীর মা অভিযোগ করেন, তার মেয়ে উপজেলার নারাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। স্কুলে যাওয়া-আসার পথে প্রতিবেশী উপজেলার উথুরা ইউনিয়নের মেনজেনা গ্রামের আবদুল আলীম কাজলের ছেলে রনি মিয়া প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি রনির বাবা-মাকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাননি তারা।
তার অভিযোগ, এর জের ধরে গত ২৯ আগস্ট সকালে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে রনি মিয়া কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তুষীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় তুষীর বাবা বাদী হয়ে গত ১ অক্টোবর ছয়জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
সংবাদ সম্মেলনে তুষীর মা আরও অভিযোগ করেন, মামলার আসামি রনির বাবা আবদুল আলীম কাজল উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিনে এসে মামলা তুলে নিতে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এমনকি খুন-জখমের হুমকিও দিচ্ছেন। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় তারা সামাজিকভাবে সালিশ বৈঠকে বসে অনুনয়-বিনয় করেও কোনো সমাধান পাননি। বরং আবদুল আলীম কাজল তাদের বিরুদ্ধেই থানায় মামলা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তুষীর মা বলেন, আমরা এখন পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। একদিকে মেয়ের কোনো খোঁজ নেই, অন্যদিকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার মেয়েটা কোথায় আছে, কেমন আছে, বেঁচে আছে কি না কিছুই জানি না। একজন মা হিসেবে এই কষ্ট কীভাবে সহ্য করব?
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আইন আইনের গতিতে চলে না, আইন চলে টাকার গতিতে। সোনার বাংলাদেশ আর নাই, এটা এখন টাকার বাংলাদেশ।
মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। শুধু মেয়েকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অপহরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তুষীর বাবা, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন