অনলাইন ডেস্ক : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পুম্বাইল ফজলুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা গণমাধ্যমকে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার আগের শিক্ষাবর্ষের পুরোনো বই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, বই হ্যান্ডট্রলিতে বোঝাই করার সময় কেউ ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হ্যান্ডট্রলিতে প্রায় ১০ হাজার বই নেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল আলী খান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বই বিক্রির অভিযোগ সত্য নয়। মাদ্রাসায় এখনো ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যবই রয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর নমুনা আমাদের মাদ্রাসার মতো। তবে এটি আমাদের মাদ্রাসার বই বিক্রির ভিডিও কি না, তা আমি নিশ্চিত নই।’
অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘ভিডিওটি আমিও দেখেছি। কে বই বিক্রি করেছে, তা আমি জানি না। বিষয়টি আমি দেখছি।’
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভিডিওটি দেখার পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, এ বছর কোনো বই বিক্রি হয়নি। সরকারি বই বিক্রির সঠিক নিয়ম সম্পর্কে এ মুহূর্তে আমি কিছু বলতে পারছি না। যেহেতু বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি করা হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি দেখার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিয়েছি। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগের সত্যতা বা ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন