Author
২৬ অগাস্ট ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন ও গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো অগ্রাধিকার পাবে

বুধবার (২৬ আগস্ট) সংসদ ভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংসদীয় কমিটি, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা, সংবিধান সংশোধন এবং আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত বিল উল্লেখযোগ্য। সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও তারা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখবেন। এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের অবহেলা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ধারাবাহিকতায় জনগণ নির্বাচনী ইশতেহার দেখেই ভোট দিয়েছেন এবং তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেই আস্থার ভিত্তিতেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।

তিনি বলেন, সংবিধানের একটি কমা, দাঁড়ি কিংবা সেমিকোলনের পরিবর্তনও সংবিধান সংস্কারের অংশ। জুলাই সনদে দক্ষিণ প্লাজায় সব রাজনৈতিক দল সম্মিলিতভাবে যে অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছে, তার প্রতিটি বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

চিফ হুইপ জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এতে বিএনপি থেকে ৭ জন এবং জামায়াত থেকে ৫ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যান্য ছোট দল থেকেও একজন করে সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল তাদের সদস্যদের নাম দিলে তাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধান সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের সংবিধান গত ৭৬ বছরে ১০৬ বার সংশোধনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল সংসদের বাইরে অস্থিরতা সৃষ্টি না করে জনগণের সমস্যা ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরবে এবং আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করবে।

চিফ হুইপ বলেন, আশা করি, সংসদের বাইরে আন্দোলন করে আবার স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করে দেবে না। ১৭ বছর ধরে জেল, গুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যে অর্জন এসেছে, সেই অর্জন অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া হবে— এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমরা চাই, বিরোধী দল সংসদে এসে জনগণের কথা বলবে, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাধানের পথ বের করবে।

তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন, সংসদীয় কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

চলমান সংকট মোকাবিলায় সময় প্রয়োজন— এ কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, কোনো সরকারের পক্ষে মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আপনার গভর্নমেন্টের বয়স ছয় মাস। ইচ্ছা করলাম, আমি দারুণভাবে চেষ্টা করলাম— আমি ছয় মাসে একটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে পারব? সবকিছু অনুকূলে থাকলেও একটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করতে দুই বছর লাগে মিনিমাম।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বড় অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে সময় প্রয়োজন। তাই জনগণকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করতে হবে। অস্থিরতা সৃষ্টি হলে এর ক্ষতি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর পড়তে পারে।

বিদ্যুৎ খাতের চুক্তি প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ খাতে করা বিভিন্ন চুক্তি দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক দায় সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দায়মুক্তির ব্যবস্থা রেখে এমন আইন করা হয়েছিল, যার ফলে এসব চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ সীমিত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের কারণে জনগণের অর্থের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকে ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। দেশের স্বার্থে এ ধরনের চুক্তির অর্থনৈতিক চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জিসিসি শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা, মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর

মির্জা আব্বাস সংসদে এলেন হুইলচেয়ারে, দিলেন আবেগঘন বক্তৃতা

ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রেসক্লাবে বৃদ্ধা মা

কটিয়াদীর দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে জলাবদ্ধতা নিরসনে এমপির চিঠি

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য দেড় কোটি টাকার স্কুল ভবন ৬ বছরেও ব্যবহৃত হয়নি

কলমাকান্দায় আগুনে পুড়ল ছয় দোকান

মোহনগঞ্জ পাবলিক হাই স্কুলে এডহক কমিটির সভাপতিকে বরণ

মোহনগঞ্জে চিকাডুবি হাওরে বাঁধের ব্লক নিয়ে তোলপাড়

কেন্দুয়ায় ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময়

১০

গফরগাঁওয়ে আগুনে চার দোকান পুড়ে ছাই

১১

পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রীকে কুপিয়ে নিজের গলা কেটেছেন এক বৃদ্ধ

১২

ঝিনাইগাতীতে সিসি সড়ক নির্মাণে সীমান্তবাসীর স্বস্তি

১৩

কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

১৪

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় পরিবর্তনের নির্দেশ আদালতের, কারণ কী

১৫

সপ্তাহে ২ দিন ছুটিসহ ওয়ার্ল্ড ভিশনে চাকরি

১৬

কটিয়াদীতে আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতাকর্মী গ্রেফতার

১৭

রৌহাডুবি বিলে স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে

১৮

প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে চোরাচালান ধরাছোঁয়ার বাইরে চক্রের সদস্যরা

১৯

মমেক হাসপাতাল ।। লিফট অচল রেখে কোটি টাকা আত্মসাৎ, রোগীদের ভোগান্তি

২০
শিরোনামঃ
জিসিসি শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা, মানবসম্পদ উন্নয়নে জোরমির্জা আব্বাস সংসদে এলেন হুইলচেয়ারে, দিলেন আবেগঘন বক্তৃতাছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে প্রেসক্লাবে বৃদ্ধা মাকটিয়াদীর দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে জলাবদ্ধতা নিরসনে এমপির চিঠিদৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য দেড় কোটি টাকার স্কুল ভবন ৬ বছরেও ব্যবহৃত হয়নিকলমাকান্দায় আগুনে পুড়ল ছয় দোকানমোহনগঞ্জ পাবলিক হাই স্কুলে এডহক কমিটির সভাপতিকে বরণমোহনগঞ্জে চিকাডুবি হাওরে বাঁধের ব্লক নিয়ে তোলপাড়কেন্দুয়ায় ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকেন্দুয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময়