পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করতে না দেওয়ার ক্ষোভে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাওলানা ও শিক্ষক বাবা ইব্রাহিম খলিল উল্লাহকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছেলে হাফেজ শরীয়ত উল্লাহকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রায় ১৪ বছর আগে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এমন রায় দেন উচ্চ আদালত।
ডেথ রেফারেন্স খারিজ ও আসামির আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফজলুল হক খান ফরিদ। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার তানভীর শিহাব খান।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে গফরগাঁওয়ের ডুবাইল গ্রামের নিজ বাড়িতে বাবা ইব্রাহিম খলিল উল্লাহকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন ছেলে শরীয়ত উল্লাহ। এসময় বাধা দিতে গিয়ে তার মা নাসিমা খাতুনও কুড়ালের আঘাতে আহত হন। গুরুতর আহত বাবা-মাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন ১৪ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ।
পরিবারের এমন মর্মান্তিক ঘটনার পর ১৫ মার্চ নিহতের আরেক ছেলে সাদিকুল্লাহ গফরগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি শরীয়ত উল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামি।
স্বীকারোক্তি নিয়ে প্রশ্ন, হাইকোর্টে খালাস
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক খান ফরিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিচারিক আদালত মূলত আসামির স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। তবে হাইকোর্টে আপিল শুনানিতে দেখা যায়, স্বীকারোক্তিটি সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল না। স্বীকারোক্তির সঙ্গে পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণেরও গরমিল ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট আসামিকে খালাস দিয়েছেন।’
আইনজীবী আরও দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামির চাচা ও চাচাতো ভাইদের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। সেই বিরোধের জেরে শরীয়ত উল্লাহকে মামলায় জড়ানো হয়েছিল বলে তাদের বক্তব্য।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর মৃত্যুদণ্ডের রায় থেকে ছেলের খালাস পাওয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটিতে নতুন মোড় এসেছে। তবে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে খালাসের বিস্তারিত যুক্তি জানা যাবে।
মন্তব্য করুন