কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার প্যাড়াভাঙ্গা এলাকায় মাত্র ২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. ইমরান (৩৮) নামে এক যুবক হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধনের পর অভিযুক্ত আবু কালামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে বসতঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে গেছে। আগুনে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের প্যাড়াভাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে প্যাড়াভাঙ্গা এলাকায় পাওনা ২ হাজার ৪০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ইমরানের সঙ্গে আবু কালামের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইমরান ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সামান্য অর্থের বিরোধে প্রাণহানির এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত ইমরান মারিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাতিয়ারচর এলাকার মৃত আব্দুস শহীদের ছেলে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ বিশ্বরোডের নতুন জেলখানা মোড়ে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ইমরান হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত আবু কালাম ও তাঁর সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই অভিযুক্ত আবু কালামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে বসতঘরসহ তিনটি ঘর আগুনে পুড়ে যায়। ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি।
একটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধনের পর অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্যাড়াভাঙ্গা এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ইমরান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয় লোকজন জেলখানা মোড়ে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন শেষে তাঁরা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করে বাড়িতে ফিরে যান।
ওসি আরও বলেন, ‘মানববন্ধন শেষ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর অভিযুক্ত আবু কালামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাই। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ইমরান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।’
মন্তব্য করুন