নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ভবানীপুর গ্রামে যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামটিতে নেই পাকা সড়ক। বর্ষায় কাদামাটির পথ ধরে চলাচল করতে হয়। এর মধ্যে গ্রামের একমাত্র পাকা সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, পাহাড়ি জাম্বো ছড়ার ওপর নির্মিত সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর বালুচর ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ ভাঙা অংশ দিয়েও ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ৩০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে প্রায় এক বছর আগে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ দিয়ে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
সম্প্রতি এক অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সেতুর সংযোগস্থলে বাঁশ ভেঙে একটি ইজিবাইক দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে চালকসহ তিনজন আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনার পর সেতুটি ব্যবহার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ভবানীপুরের বাসিন্দা মোজাম্মেল মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের ভবানীপুর অবহেলিত একটি গ্রাম। কেউ কোনো দিন ভালোভাবে নজর দেয়নি। যেটুকু একটা ব্রিজ হয়েছিল, সেটিও এখন ভেঙে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা উম্মে কুলসুম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের সন্তানেরা স্কুলে যেতে পারে না। এখন নদীর বালুচর ঘুরে যেতে হয়। এটিই আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা। আমরা চাই, সরকার আমাদের দিকেও নজর দিক।”
স্থানীয় শিক্ষক প্রমিত রিছিল গণমাধ্যমকে বলেন, “বর্ষাকালে কাঁচা সড়কে কাদা জমে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমেও স্বস্তি নেই। বর্তমানে সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় বিদ্যালয়ে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনে শহরে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।”
এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত গণমাধ্যমকে বলেন, আন্তর্জাতিক সীমারেখাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে গ্রামটিতে উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ভেঙে পড়া সেতুর সংযোগ সড়ক মেরামত ও এলাকার উন্নয়নের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবানীপুরের যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সেতুর সংযোগ সড়ক মেরামত এবং টেকসই সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ চান স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন