মুক্তাগাছা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তান ঘরছাড়া হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে মো. সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে সুমনের মা আদালতে মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার সুমন মিয়া মুক্তাগাছা পৌরসভার নন্দীবাড়ি সীসার মোড় এলাকার আবদুল মালেক (৬০) ও মোছা. সমলা খাতুনের ছেলে। সোমবার নন্দীবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন সুমন। প্রায় আট বছর আগে তিনি ওই পেশা ছেড়ে দেন। এরপর ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি। গত প্রায় চার বছর ধরে তিনি ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি মাদক বিক্রির সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।

পরিবারের অভিযোগ, মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাধা দিলে সুমন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করতেন। একপর্যায়ে প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রী নিলুফা খাতুন ও ছেলে নাঈমুল হোসেনকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে প্রায় তিন মাস আগে মা-বাবাকেও মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

বাড়ি থেকে বের হয়ে বৃদ্ধ আবদুল মালেক ও সমলা খাতুন ছোট ছেলে মো. আলামিনের আটানীবাজার এলাকার ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেন।

সুমনের স্ত্রী নিলুফা খাতুনের অভিযোগ, তাঁর স্বামী প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে এসে মাদক সেবন করতেন। এতে বাধা দিলে তাকে মারধর করা হতো। একইভাবে শ্বশুর-শাশুড়িকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সুমনের মা সমলা খাতুন বলেন, ছেলে আগে এমন ছিল না। ইয়াবায় আসক্ত হওয়ার পর থেকেই তার আচরণ বদলে যায়। আমাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। অনেক কষ্টে এখন ছোট ছেলের আশ্রয়ে থাকতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মাদক সেবনের কারণে সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। এমনকি সংসারের বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।

স্বজনেরা আরও জানান, এর আগেও সুমনকে ডিবি ও থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বলে তাদের অভিযোগ।

পুলিশ জানায়, সুমনের বিরুদ্ধে আদালতে করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।