নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলাসহ তিন জেলার সীমান্তে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এ মালামাল উদ্ধার করেছে।
ভারতের মেঘালয়-ঘেঁষা নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা উপজেলায় প্রায় ৯২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এত বড় সীমান্ত এলাকায় পাহারা দেয়ার জন্য বিজিবির তত্ত্বাবধানে রয়েছে মাত্র ১০টি সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চৌকি। এছাড়া ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তে আরো পাঁচটি সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চৌকি রয়েছে।
নেত্রকোনাসহ তিন জেলার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান বন্ধে কাজ করছে ৩১ বিজিবি। তবে সীমিত জনবলের কারণে বিজিবির সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব সীমান্ত এলাকা দিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন পণ্য পাচার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মদ, ইয়াবা, ফেনসিডিল, ট্যাপেনটাডল, গাঁজা, গরু, মহিষ, চিনি, কম্বল, জিরা, সুপারি, ওষুধ, বাঁশ, কয়লা, চিপস, রাসায়নিক, শাড়ি, লেহেঙ্গা ও বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী সামগ্রী।
৩১ বিজিবির তথ্যানুযায়ী, জব্দ করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ২ হাজার ৯৮৬ বোতল বিদেশী মদ, ৬০ বোতল বিয়ার, ২৪০ বোতল ফেনসিডিল, ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ৪২৮টি ইয়াবা, ৪৯ বোতল ইস্কাফ সিরাপ ও ৮৪টি ট্যাপেনটাডল। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৮ লাখ ২৩ হাজার ৪২০ টাকা।
এছাড়া গরু, চিনি, কম্বল, জিরা, সুপারি, ওষুধ, বাঁশ, কয়লা, চিপস, রাসায়নিক, শাড়ি, লেহেঙ্গা ও প্রসাধনী সামগ্রীসহ অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ কোটি ৪৪ লাখ ২৩ হাজার ৬৪০ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ করা পণ্যের মোট বাজারমূল্য ১০ কোটি ৯২ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬০ টাকা।
চোরাচালানে ব্যবহৃত ৮টি ছোট-বড় ট্রাক, ১০ থেকে ১৫টি অটোরিকশা ও সিএনজি এবং প্রায় দেড় শতাধিক মোটরসাইকেলও আটক করে জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
নেত্রকোনা ব্যাটালিয়ন ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, নেত্রকোনা জেলার দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা ৯২ কিলোমিটার। নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিজিবির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও রাস্তাঘাটের সংকটের কারণে এত বড় দুর্গম সীমান্ত এলাকায় পাহারা দেয়া কঠিন। এরপরও সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, অবৈধ অস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩১ বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মানব পাচার প্রতিরোধে অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
|
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬