ময়মনসিংহের ভালুকায় এবার ৬৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি মণ্ডপ একাধিক উপজেলার সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সেগুলোকে তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে পূজা উদযাপন কমিটি। এসব মণ্ডপে বাড়তি নজরদারি ও নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মহাষষ্ঠীর আগে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা সাজানো, আলোকসজ্জা ও মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে মণ্ডপগুলোতে প্রস্তুতির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করছে প্রশাসন। ভালুকা পৌর এলাকায় এবার ছয়টি মণ্ডপে পূজা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রানী পাল বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে চাই। মণ্ডপের আশপাশে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি স্বপন বনিক বলেন, ‘উপজেলার ৬৮টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী কয়েকটি মণ্ডপ নিয়ে তাদের কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকসেবী বা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের পূজামণ্ডপে প্রবেশ ঠেকাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’
ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় ৬৮টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকার মণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।’
ওসি বলেন ‘স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, ছোট লোহাবই, মেদুয়ারী, শান্তিগঞ্জ বাজার, রাজৈ বটতলা ও রাজৈ ভূঁইয়াবাড়ি এলাকার কয়েকটি মণ্ডপ ভালুকা, ত্রিশাল, ফুলবাড়িয়া, গফরগাঁও ও শ্রীপুর থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। এসব মণ্ডপে একাধিক থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন