Tawfik
১০ অক্টোবর ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহে ৪ উপজেলায় ১৮০ কোটি টাকা হরিলুট: সচিবসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ না দিয়েই প্রশিক্ষকের সম্মানী উত্তোলন, মাঠকর্মীদের ভাতা বিতরণে অনিয়ম, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন ব্যবহার এবং জাল বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহ জেলার ১০টি উপজেলায় কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ দেওয়া ২৯২ কোটি ১১ লাখ ৫১২ টাকার ব্যয় নিয়ে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে গৌরীপুর, হালুয়াঘাট, ফুলবাড়ীয়া ও ত্রিশাল এই চার উপজেলাতেই প্রায় ১৮০ কোটি টাকা হরিলুট করেছেন।

এ ঘটনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মহিউদ্দিন বর্তমান সচিব মাহাবুব উল আলম, যুগ্ম সচিব লুলু বিলকিছ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক মফিজুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব রবিউল ইসলাম ও উপসচিব ডা. জহিরুল ইসলামসহ ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তারা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন উচ্চ আদালতে একটি রীড পিটিশন দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

দুর্নীতির বিষয়টি অনুসন্ধানের পাশাপাশি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও আরও দুটি গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করছে। তবে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার তদন্তের বর্তমান অবস্থা ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি তবে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ অনুসন্ধান করছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তর থেকে গায়েব হয়ে গেছে।

এ ছাড়া অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি-পদায়ন এবং তাঁদের রক্ষায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভোলা অনুসন্ধানী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক রোকন উদ্দিন জানিয়েছেন, আমার দপ্তর থেকে আমার অনুমতি ছাড়া দুর্নীতির সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ের একজন স্টাফ চুরি করে নিয়ে যায়। আমি এঘটনায় একটি সাধারণ জিডি করেছি। চুরি করে নেওয়া সময় তার সিসি ফুটেছে সনাক্ত করা হয়েছে। সিসি ফুটেজ এবং তার বিস্তারিত তথ্য গোয়েন্দা সংস্থা সংগ্রহ করেছেন বলে তিনি প্রতিদিনের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন।

চার উপজেলায় ১৮০ কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গৌরীপুর উপজেলায় ৪৭ কোটি, হালুয়াঘাটে ৩৭ কোটি, ফুলবাড়ীয়ায় ৪৪ কোটি এবং ত্রিশালে ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক চার সংসদ সদস্য ও দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশের সঙ্গে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

তবে এসব অর্থের কতটুকু আত্মসাৎ হয়েছে, কতটুকু অনিয়মিতভাবে ব্যয় হয়েছে এবং কারা সরাসরি আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন, তা নির্ধারণে প্রকল্পের বরাদ্দ, ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয় বা পদ-পদবি দিয়ে কারও দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না; অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সচিবালয়ে তদন্তের নথি গায়েবের অভিযোগ

অভিযোগকারী সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিকের দাবি, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে ২৯২ কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয়ের অনিয়ম নিয়ে তদন্তের একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তর থেকে গায়েব হয়ে গেছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, নথিটি শেষবার কার হেফাজতে ছিল এবং সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে সরানো হয়েছে কি না এসব প্রশ্নের উওর জানতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছেন।

অভিযোগ আছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেনের বিরুদ্ধেও গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন এবং তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ অঞ্চলে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওই অঞ্চলে পদায়নের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন।

এ ছাড়া উপপরিচালক ফারজানা পারভীন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিমের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন বলে অভিযোগকারীর ভাষ্য। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো প্রত্যক্ষ নথি, যোগাযোগের রেকর্ড কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

মামলার আবেদনে ময়মনসিংহের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উপপরিচালক ফারজানা পারভীন, সাবেক সহকারী পরিচালক ও বর্তমানে জামালপুরের উপপরিচালক নুরুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক সহকারী পরিচালক মো. জোয়াহের আলী মিয়া, গৌরীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ, ত্রিশাল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবু জুলহাস এবং ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ও গোলাম মোস্তফা।

এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে ডা. জহিরুল ইসলামের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেছেন বাদী। অভিযোগের বিবরণে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম এসেছে।

অভিযোগকারীর দাবি, ২০১৭ সালের ২০ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কার্যক্রমে এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। অভিযুক্তদের কেউ বর্তমানে বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত, আবার কেউ অবসরে গেছেন।

তবে কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ এবং কোন নথির ভিত্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তা পৃথকভাবে যাচাই করে দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই দিনে বিপুলসংখ্যক ক্লাস দেখিয়ে সম্মানী উত্তোলন? ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ না দিয়েই সম্মানী উত্তোলনের অভিযোগের পক্ষে মামলার আবেদনে বিপুলসংখ্যক ক্লাস দেখানোর হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মসূচির প্রশিক্ষণসূচিতে প্রথম ব্যাচের ক্লাস সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা এবং দ্বিতীয় ব্যাচের ক্লাস দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিচালনার কথা ছিল।

অথচ ত্রিশাল উপজেলায় কয়েকজন কর্মকর্তার নামে শত শত ক্লাস দেখানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ফারজানা পারভীনের নামে ৪৫২টি, নুরুজ্জামান চৌধুরীর নামে ৪৩৪টি, জোয়াহের আলী মিয়ার নামে ৪৩৪টি এবং আবু জুলহাসের নামে ৮৩৩টি ক্লাস দেখানোর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া উপজেলা একাডেমি সুপারভাইজার সাহানা আক্তারের নামে ৪২০টি, চিকিৎসক ওয়াজিদ আহমেদের নামে ৬৬৮টি, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সপেক্টর মতিউর রহমানের নামে ৫৪৮টি, ত্রিশাল ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সাবিনা ইয়াসমিনের নামে ৬৬৮টি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মৎস্য প্রশিক্ষক বদরুজ্জামান ফকিরের নামে ৭০০টি এবং অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবুল বাশারের নামে ২২০টি ক্লাস দেখানোর কথা বলা হয়েছে। আবুল বাশার বর্তমানে চট্টগ্রামে উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন উপজেলায় ফারজানা পারভীনের নামে মোট ১ হাজার ৮৪৮টি, নুরুজ্জামান চৌধুরীর নামে ১ হাজার ৭০৮টি, জোয়াহের আলী মিয়ার নামে ১ হাজার ৭০৪টি, নন্দন কুমার দেবনাথের নামে ১ হাজার ২৫৭টি, নূর মোহাম্মদের নামে ১ হাজার ৮৫টি এবং আবু জুলহাসের নামে ৮৩৩টি ক্লাস দেখানো হয়েছে।

একই সময়ে একাধিক স্থানে ক্লাস পরিচালনার হিসাব দেখানো হয়ে থাকলে তা বাস্তবসম্মত ছিল কি না, তা নির্ধারণে প্রশিক্ষণের তারিখ, সময়, স্থান, উপস্থিতির তালিকা, প্রশিক্ষণার্থীদের সাক্ষ্য এবং সম্মানী পরিশোধের নথি মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগে উল্লিখিত সংখ্যাগুলোও মূল প্রশিক্ষণ রেজিস্টার ও অর্থ পরিশোধের হিসাবের সঙ্গে যাচাই করা জরুরি।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির মাঠকর্মীদের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করা হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব হিসাব পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন বাদী।

অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি ব্যাংকের পরিবর্তে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে এবং ভুয়া পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ ও জাল বিল-ভাউচার ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের মালিকানা, হিসাব খোলার আবেদনপত্র, পরিচয় যাচাইয়ের নথি, অর্থ স্থানান্তরের বিবরণ, প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা এবং বিল-ভাউচারের মূল কপি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ব্যাংক বা কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যায় না।

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ত্রিশাল উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদনে ভুয়া ব্যাংক হিসাব দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অনিয়ম উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন বাদী।

তাঁর আরও দাবি, তদন্ত কমিটি ৫৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ কপি, সুপারিশ বাস্তবায়নের নথি এবং অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

আবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ত্রিশাল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবু জুলহাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং তাঁকে হালুয়াঘাট উপজেলায় বদলি করা হয়। তদন্তের সুপারিশ বাস্তবায়ন, বিভাগীয় মামলার ফলাফল এবং সরকারি অর্থ ফেরতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি যাচাই করা হলে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

মামলার আবেদনে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্বজনদের মাধ্যমে কানাডায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের আর্থিক নথি, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য কিংবা সম্পদের বিবরণ রয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয় ও সম্পদের বিবরণ, ব্যাংক লেনদেন, বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের তথ্য এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক অনুসন্ধান প্রয়োজন। প্রমাণ ছাড়া অর্থ পাচারের অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অভিযোগকারীর দাবি, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাননি তিনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁর অজ্ঞাতে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং কিছু অভিযোগের নথি দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আদালতে মামলা, অনুসন্ধানের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অভিযোগ করে প্রতিকার না পাওয়ায় জনস্বার্থে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের জেলা জজ, দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে এ বিষয়ে মামলার আবেদন করা হয়। আবেদনে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার নম্বর ০১/২০২৩।

অভিযোগের বিবরণে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী আনিসুর রহমান ও শাহজাহানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে অনুসন্ধানের বর্তমান পর্যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং অভিযোগের কোন কোন অংশের সত্যতা পাওয়া গেছে—এসব বিষয়ে দুদকের হালনাগাদ বক্তব্য প্রয়োজন।

বাদীর আশা, যথাযথ অনুসন্ধান ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা উদ্‌ঘাটিত হবে এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিললে তা উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপপরিচালক ফারজানা পারভীনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁকে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও জবাব পাওয়া যায়নি।

Facebook Comments Box
১ম লাইন রঙ
২য় লাইন রঙ
ফন্ট সাইজ (65px)

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিলম্বের পর বিমানের বিজি ৪৩৬ ফ্লাইটটি নিরাপদে ঢাকায় অবতরণ করেছে

১

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

২

বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধান মন্ত্রীর

৩

সারের লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি এমপি বাবুর

৪

মসজিদের সামনে মোনাজাত ধরে বিচার চাইলেন বৃদ্ধা, কিছুক্ষণ পরই…

৫

নিখোঁজের দুদিন পর গাছের মগডালে মিলল সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ

৬

ইট ভেঙেছেন, টিউশনি করেছেন, অভাব ডিঙিয়ে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন আমিনুল

৭

আট বছর পর কিশোরগঞ্জের পুরোনো কারাগার চালু

৮

ভালুকায় ৮৬ ব্যাচের সমবায় সমিতির প্রাক্‌-নিবন্ধন প্রশিক্ষণ

৯

এক হাজার শয্যার হাসপাতালে ৪ হাজারের বেশি রোগী

১০

লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়ার প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার একজন আসামিকে কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি

১১

কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকার জন্য মা-বাবাকে মারধর, ছেলের ৬ মাসের কারাদণ্ড

১২

ময়মনসিংহে ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু

১৩

ময়মনসিংহে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু, আহত স্ত্রী-শ্বাশুড়ি

১৪

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছিলো ইটভাটা, দেয়াল ধসে ২ শ্রমিক নিহত, আহত ২

১৫

ময়মনসিংহে ৪ উপজেলায় ১৮০ কোটি টাকা হরিলুট: সচিবসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

১৬

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকায় ৩২ রুটে চলবে কোম্পানির বাস

১৭

রাজশাহীতে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

১৮

শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন

১৯

ময়মনসিংহে বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট

২০
শিরোনামঃ
❮বিলম্বের পর বিমানের বিজি ৪৩৬ ফ্লাইটটি নিরাপদে ঢাকায় অবতরণ করেছে❮ডেঙ্গু প্রতিরোধে ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা অভিযান❮বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধান মন্ত্রীর❮সারের লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি এমপি বাবুর❮মসজিদের সামনে মোনাজাত ধরে বিচার চাইলেন বৃদ্ধা, কিছুক্ষণ পরই...❮নিখোঁজের দুদিন পর গাছের মগডালে মিলল সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ❮ইট ভেঙেছেন, টিউশনি করেছেন, অভাব ডিঙিয়ে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন আমিনুল❮আট বছর পর কিশোরগঞ্জের পুরোনো কারাগার চালু❮ভালুকায় ৮৬ ব্যাচের সমবায় সমিতির প্রাক্‌-নিবন্ধন প্রশিক্ষণ❮এক হাজার শয্যার হাসপাতালে ৪ হাজারের বেশি রোগী