রাজনৈতিক, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ধরপাকড়ের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি অবস্থান করছেন। অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামলাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া জেলার পুরোনো কারাগারটি দীর্ঘ আট বছর পর আবার চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এটিকে মূলত ‘বিশেষ কারাগার (মাদক)’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পুরোনো কারাগারটিতে ইতোমধ্যে নতুন কারাগার থেকে কিছু মাদক মামলার আসামিকে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নতুন গ্রেপ্তারকৃত মাদক আসামিদেরও সরাসরি সেখানে পাঠানো হচ্ছে। ২৪৫ জন ধারণক্ষমতার পুরোনো কারাগারে গতকাল বৃহস্পতিবার অবস্থান করছিলেন ২৫৯ জন বন্দি। অন্যদিকে, এক হাজার ৪৫ জন ধারণক্ষমতার নতুন কারাগারে বন্দি ছিলেন দুই হাজার ৩১২ জন।
কিশোরগঞ্জ শহরের ভেতরে ১৯৪৮ সালে পৌনে তিন একর জমির ওপর ২৪৫ জন বন্দির ধারণক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় কারাগার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খিলপাড়া এলাকায় ২০ একর জমির ওপর এক হাজার ৪৫ জন ধারণক্ষমতার একটি আধুনিক নতুন কারাগার নির্মাণ করা হয়। এটির নাম দেওয়া হয় ‘জেলা কারাগার-১’ এবং পুরোনো কারাগারের নাম দেওয়া হয় ‘জেলা কারাগার-২’। ২০১৮ সালে নতুন কারাগার চালু হওয়ার পর পুরোনো কারাগারের সব বন্দিকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।
পরবর্তী সময় পুরোনো কারাগারটিকে বন্দিদের বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে করোনা মহামারির সময় আক্রান্ত বন্দিদের আলাদা রাখার জন্য ২০২১ সালের ২৩ মে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে ‘কভিড সেন্টার’ হিসেবে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন। করোনার প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ার পর কারাগারটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।
জানা গেছে, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাজনৈতিক ও সাধারণ অপরাধে গ্রেপ্তারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকালও পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাগাতার এই ধরপাকড়ের ফলে নতুন কারাগারে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ২০ জুন থেকে পুরোনো কারাগারটি পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পুরোনো কারাগারের জেল সুপার নূর মোহাম্মদ জানান, গত ২০ জুন থেকে কারাগারটি একটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে। পরিচালনায় একজন জেল সুপার, একজন জেলার (কারাধ্যক্ষ) এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক কারারক্ষী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি এখন ‘বিশেষ কারাগার (মাদক)’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
নতুন কারাগারের জেল সুপার জাহানারা বেগম জানান, নতুন কারাগারের বর্তমানে দুই হাজার ৩১২ জন বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন। চাপ কমাতে পুরোনো কারাগার চালুর পরপরই নতুন কারাগার থেকে প্রায় ৫০ জন মাদক মামলার আসামিকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন