জাপান প্রবাসী এক তরুণীর কাছ থেকে আইফোনসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের জান্নাতুল নাঈম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চাইতে গিয়ে উল্টো মামলার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নালিতাবাড়ী শহরে নিজের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মিজানুর রহমান। এ সময় জাপান থেকে মুঠোফোনে যুক্ত হয়ে ওই তরুণীও তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রতিকার, অর্থ ফেরত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমানের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, জান্নাতুল নাঈম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘অন্ত সরকার দ্রুব’ নামে একটি পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে হিন্দু ও অবিবাহিত তরুণ হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে নোয়াখালীর এক জাপানপ্রবাসী হিন্দু তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই তরুণীর কাছ থেকে আইফোনসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৮ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান।
তাঁর দাবি, পরবর্তী সময়ে আরও পাঁচ লাখ টাকা না দিলে বিয়ে করবেন না বলে জান্নাতুল নাঈম জানালে ওই তরুণীর সন্দেহ হয়। পরে জাপানপ্রবাসী আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে তাঁর বড় ভাই মিজানুর রহমানের পরিচয় হয়। এরপর তরুণী বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকার চাইলে তিনি সমাধানের উদ্যোগ নেন।
মিজানুর রহমানের ভাষ্য, দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে জান্নাতুল নাঈমকে নালিতাবাড়ীতে ডেকে এনে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে নাঈম নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে জান্নাতুল নাঈম শেরপুর আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন বলে জানান মিজানুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান দাবি করেন, তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, মামলার নিরপেক্ষ পর্যালোচনা এবং প্রবাসী তরুণীর অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জান্নাতুল নাঈমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন