কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া গেছে প্রায় ২৫ কেজি সোনা ও রুপার অলংকার। একই সঙ্গে ১৭ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও বিভিন্ন দেশের ধাতব মুদ্রাও পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, সোনার ক্যারেট যাচাই ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ কার্যক্রম চলে।
জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দানবাক্স থেকে পাওয়া ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালংকারের ওজন প্রায় ১২ দশমিক ১৮ কেজি। এ ছাড়া ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপার ওজন প্রায় ১২ দশমিক ৬৯ কেজি। সব মিলিয়ে স্বর্ণালংকার ও রুপার মোট ওজন প্রায় ২৪ দশমিক ৮৭ কেজি।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দানবাক্স থেকে পাওয়া স্বর্ণালংকার, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সিলগালা অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়েছিল। সোমবার ট্রেজারিতে রাখা ৯টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে এসব সামগ্রী আলাদা করা হয়।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৮ হাজার ৫৭ মার্কিন ডলার, ৫৭ হাজার ৪১৪ সৌদি রিয়াল, ৩৭ হাজার ৮৭৭ ভারতীয় রুপি, ২৯ হাজার ৬৬২ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ১৪ হাজার ২৪০ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম, ৭৬৭ কুয়েতি দিনার, ৮৮৮ ওমানি রিয়াল, ৭ হাজার ৯৭৩ কাতারি রিয়াল এবং ৩৩৩ বাহরাইনি দিনার।
এ ছাড়া পাওয়া গেছে ১ হাজার ৭১৮ সিঙ্গাপুর ডলার, ১ হাজার ২২০ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৫ হাজার ২৪৫ ইউরো, ৫৫৫ অস্ট্রেলীয় ডলার, ২৫ কানাডীয় ডলার, ৯০০ মালদ্বীপের রুফিয়া এবং ৩০৫ চীনা ইউয়ান। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রা পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির তত্ত্বাবধানে ওজন নির্ধারণ ও গণনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করেন। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণালংকার ও রুপার ওজন নির্ধারণ ও পরিমাপ করেন।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, ওজন নির্ধারণ ও গণনা শেষে স্বর্ণালংকার ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। অন্যদিকে, বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৮৪ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। ওই সময় এসব সামগ্রী ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়।
মন্তব্য করুন