বারহাট্টায় প্রতিবাদ সভায় মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানি ।। ইসলামবিরোধী হলে সরকারের মসনদ কাঁপিয়ে দেবো ইনশাআল্লাহ

26

নেত্রকোনা প্র নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর বাজারে কুরআন অবমাননার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক মাঠের খেলোয়াড়, আমাদের আঞ্চলিক খেলোয়াড় বানাবেন না। তিনি কুরআন অবমাননা মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তওবার আহ্বান জানান।

সমাবেশে মাওলানা রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীদের দাবি মেনে না নেয়া হলে সাত দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। পরবর্তী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বারহাট্টার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির প্রত্যাহার, জেলায় শহর বন্ধ করে দেয়া, এবং কুরআন অবমাননার বিরুদ্ধে যারা প্রশ্রয় দেবে তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। মাওলানা রফিকুল বলেন, ইসলাম বিরোধী অবস্থানে থাকার কারনে হাসিনার মসনদ যেভাবে কাঁপিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছি। ইসলামবিরোধী অবস্থান থাকলে সরকারের মসনদ কাঁপিয়ে দেবো ইনশাআল্লাহ।

জানা যায়, গত ১২ জুলাই রাতে চন্দ্রপুর গেইরা বাজারে ঘটে কুরআন অবমাননার ঘটনা। কামালপুর জয় কৃষ্ণ নগরের ফজু মিয়ার ছেলে হাবিবুর বাজার মসজিদ থেকে একটি কুরআন শরিফ নিয়ে নাজমা ও বেগমা আক্তারের আশ্রয়ে থাকা এক পাগল কুরআন অবমাননা করেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ওই পাগলের ভক্তরা। এরপর ১৪ জুলাই রাতে বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের হয়। পুলিশ নাজমা আক্তার ও পাগল আবু বক্করসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তৌহীদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কিছু অংশগ্রহণকারীর বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুফতি তাহের কাসেমী। প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা থেকে আগত মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়জী। আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতি রিজওয়ান রফিকী, মুফতি আরিফ জব্বার কাসেমী, মুফতি সালমান ফারসী, মুফতি আনিসুর রহমান ও স্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও তৌহীদী জনতা।

মুফতি তাহের কাসেমী জানান, দুই দফা দাবী আদায় না হলে সাত দফা কর্মসূচি শুরু হবে। সেগুলো হলো: ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান। ২ অক্টোবর জরুরি বৈঠক। ৪ অক্টোবর সাংবাদিক সম্মেলন। ৮ অক্টোবর মানববন্ধন। ১৩ অক্টোবর বিক্ষোভ মিছিল। ১৯ অক্টোবর বারহাট্টা অবরোধ ও ২ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।

এদিকে, কুরআন অবমাননার এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কারণে পরিস্থিতি সহজে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here