কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পাঁচ মাস আগে নিখোঁজ আরিফুল ইসলাম সালমান (২১) নামের এক যুবকের হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নরসুন্দা নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
নিহত সালমান হোসেনপুর উপজেলার দক্ষিণ কুড়িমারা গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে মাহিন (২০) ও শাকিল মিয়া (১৮) এবং একই এলাকার রফিক মিয়া (১৯)।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সালমান। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরদিন ১৯ মে হোসেনপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বাবা। এরপর পুলিশ তাঁকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ পাঁচ মাসেও তাঁর সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছিল পরিবারের সদস্যদের।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সালমানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুরের চৌকিদার বাড়ি এলাকায় অভিযান চালায় জেলা ডিবি পুলিশ। এ সময় শাকিল ও মাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রফিক মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল ও মাহিন সালমানকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ নরসুন্দা নদীতে গুম করার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে নদীর কচুরিপানার নিচ থেকে সালমানের হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাবেন জেলা পুলিশ সুপার।
ঘটনাটির তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
মন্তব্য করুন