নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকিরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে কলমাকান্দা উপজেলায় নিজ গ্রামে তাঁকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত করছে পুলিশ।
পুলিশ, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের উৎরাইল-তেলুঞ্জিয়া এলাকায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ির সামনের মোড়ের একটি চায়ের দোকান থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন আলিফ ফকির। পরে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে দেরিতে বাড়ি ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছিলেন আলিফ ফকির। পরে মোড়ের চায়ের দোকান থেকে বের হওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
চায়ের দোকানের মালিক রবিন সাংমা জানান, আলিফ ফকির তাঁর দোকানে বসে চা পান করে চলে যান। পরে ফেলে যাওয়া মুঠোফোন নিতে আবার দোকানে ফেরেন তিনি। মুঠোফোন নিয়ে চলে যাওয়ার সময় দুই যুবক দোকানে সিগারেট কিনতে আসেন। দোকান থেকে বেরিয়ে ওই দুই যুবক আলিফ ফকিরের পেছনে যান এবং তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন রবিন সাংমা।
পুলিশ জানায়, আলিফ ফকিরের শরীরে পাঁচটি গুলির আঘাত পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। এর আগেও আলিফ ফকির হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলেও জানান পুলিশ সুপার।
হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন