নিজস্ব সংবাদদাতা : শেরপুরে অটোরিকশাচালক মন্নাছ (৩৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন বছর পর মামলার তিন আসামি ও মন্নাছের বন্ধু মোস্তাকিন (৩০), মো. শাহীন (৪০) ও মো. স্বপন (৪২)কে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।
পিবিআইয়ের দাবি, মন্নাছের অটোরিকশা আত্মসাৎ করে বিক্রি করার উদ্দেশ্যেই তাঁর তিন বন্ধু তাঁকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পরও তিন আসামি এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভাড়ায় অটোরিকশা চালানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম টালকি গ্রামের মন্নাছ। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। দুই দিন পর ২৫ ডিসেম্বর সকালে পাঠাকাটা বাঘমারি বিলের কাদামাটিতে কচুরিপানার নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে নকলা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের সময় স্বপন পুলিশের সঙ্গে উপস্থিত থাকলেও তখন তাঁকে সন্দেহ করা হয়নি বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় মন্নাছের স্ত্রী আসমা আক্তার বাদী হয়ে ওই দিনই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নকলা থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় ২০২৪ সালের ৫ জুলাই আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে যায়।
পিবিআই জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে মন্নাছ ও তাঁর তিন বন্ধুর বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে আগে থেকে পরিচিত এক নারীর বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর তদন্তে সেটিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেয় পিবিআই।
এরই ধারাবাহিকতায় তদন্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম মোস্তাকিনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে গত ১৭ আগস্ট শাহীন এবং ১৮ আগস্ট স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই পুলিশ সুপার পংকজ দত্তের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
পিবিআইয়ের দাবি, মন্নাছ ও তাঁর তিন বন্ধু পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাঁরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং বিভিন্ন সময় নারী ও খদ্দেরের ব্যবস্থা করে দিতেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
পিবিআই সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মন্নাছের অটোরিকশাটি আত্মসাৎ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে স্বপন তাঁকে একটি মেয়ের সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। ওই মেয়ে পাঠাকাটা বাজারের কাছে অবস্থান করছেন বলে মন্নাছকে জানানো হয়। এরপর স্বপন মন্নাছের অটোরিকশায় ওঠেন। পথে অপেক্ষা করছিলেন মোস্তাকিন ও শাহীন।
পরে চারজন একসঙ্গে চা পান ও আড্ডা দেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে স্বপন মন্নাছকে জানান, ওই মেয়ে কাছাকাছি বাঘমারি বিলে এসেছে। এরপর মন্নাছের অটোরিকশায় করে তাঁরা বাঘমারি বিলের দিকে রওনা হন।
বিলের কাছে গিয়ে মন্নাছ একটি বাড়ির পাশে অটোরিকশাটি তালাবদ্ধ করে রাখেন বলে পিবিআই জানিয়েছে। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মোস্তাকিন তাঁর গলা চেপে ধরেন এবং শাহীন ও স্বপন তাঁকে মারধর করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে মন্নাছ মারা যান বলে পিবিআইয়ের দাবি।
পরে মরদেহ কাদা ও কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে চলে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে অটোরিকশাটি ভেঙে লোহার বডি একটি ভাঙারির দোকানে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। একইভাবে নকলা বাজারের একটি ব্যাটারির দোকানে অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন