নিজস্ব সংবাদদাতা : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মুন্নী আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে তাঁর স্বামীসহ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামে মোহনগঞ্জ-সমাজ সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
নিহত মুন্নী আক্তার উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের ইদ্রিছ মিয়ার মেয়ে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট দিবাগত রাতে উপজেলার কয়ড়াপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মুন্নী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর তাঁর স্বামী সোহাগ মিয়াসহ শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় তিন বছর আগে কয়ড়াপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার সঙ্গে মুন্নীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা মুন্নীকে নির্যাতন করতেন বলে তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, ১০ আগস্ট রাতে মুন্নীকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ বিছানায় রেখে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান।
বক্তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পরও আসামিরা এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
নিহত মুন্নীর বাবা ইদ্রিছ মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। মামলা করার পরও আসামিরা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে আসামিপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় লুটপাটের অভিযোগ করেছে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন মুন্নীর মা নুরজাহান আক্তার, সোনারামপুর গ্রামের বাসিন্দা মনি আক্তার, শিউলি আক্তার, ইউপি সদস্য শাহ আলম, মো. কাউসার মিয়া, নিহতের ভাই মো. আনিছ মিয়া, ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জুলহাস উদ্দিন, পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মহসিন তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জয়, জুলফিকার আহমেদ, এলাজ মিয়া, আদর আলী, মুখলেছ মিয়া ও রুমান কবিরসহ অনেকে।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মুন্নী আক্তারের মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মুন্নী আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন