নেত্রকোনা সংবাদদাতা : নেত্রকোনার পূর্বধলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ ও এক যুবদল নেতার মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নেত্রকোনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা নিয়মিত জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক এস এম রাজিবুল হাসান তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি ও পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
আদালত পুলিশ ও পূর্বধলা থানা সূত্রে জানা যায়, ২৫ আসামি এর আগে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁরা বুধবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করেন। পরে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ১৯ মে পূর্বধলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৫৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারার জন্য দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। পরদিন ২০ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনিম জাহানের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য নিলাম শুরু হয়।
নিলামকে কেন্দ্র করে আগিয়া বাজারের ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং প্রশাসন সেদিনের মতো ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করে।
পরে ওই দিন বিকেলে আগিয়া বাজারে যুবদল নেতা ওমর শরীফের ওপর হামলা এবং তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরদিন নয়, বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ঘটনার পাঁচ দিন পর ওমর শরীফ বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলা করেন। মামলায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির জয়নাল আবেদিনকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক আইনের ধারাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি।
এদিকে ৩৩ আসামির মধ্যে বুধবার ২৫ জন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি আসামিদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
আদালতের আদেশের বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ছাদেক আহমেদ হারিছ গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা আশা করেছিলাম বিচারক তাঁদের জামিন দেবেন, কিন্তু দেননি। ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং আশা করি, আদালতের কাছে আমাদের নেতা-কর্মীরা ন্যায়বিচার পাবেন।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, উচ্চ আদালতের দেওয়া আট সপ্তাহের আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আসামিরা নিম্ন আদালতে হাজির হন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন