ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকারকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে আলোচনায় আসা ব্যবসায়ী হনুফা আক্তার সাথী (৩০) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) শুনানি শেষে বিচারিক আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার তিনি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান। এ সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর দোকানের কর্মচারীরা কাজে আসেননি বলে দাবি করেন সাথী।
সাথী নিজেকে বিএনপির সমর্থক দাবি করে বলেন, দলের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি অংশ নিয়েছেন এবং সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন।
সাথীর ভাষ্য, গত কয়েক মাসে তাঁর তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে শোরুমের এসির বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনাও রয়েছে। এসব বিষয়ে নিজের কষ্টের কথা ফেসবুক লাইভে তুলে ধরেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
সাথী আরও অভিযোগ করেন, ফেসবুক লাইভের পর স্থানীয় কিছু বিএনপির নেতা-কর্মী তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে তাঁকে গালাগাল করেন। পরে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জামিনের পর সাথী বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বিএনপিকে ভালোবাসেন। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার পরও নেতা-কর্মীদের আচরণে তিনি কষ্ট পেয়েছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, জামিরদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিলের দাবি, সাথী ফেসবুক লাইভে বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। পরে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ইব্রাহীম খলিল বলেন, পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে তিনি ভালুকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাথীকে থানায় নিয়ে যায়। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতা-কর্মীরা সাথীর ওপর হামলা করেননি। সাথী বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়ার যে দাবি করেছেন, সেটিও তিনি অস্বীকার করেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত রোববার বেলা দুইটার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন সাথী। প্রায় পাঁচ মিনিট ২২ সেকেন্ড এবং আট মিনিট আট সেকেন্ডের দুটি ভিডিওতে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’
ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ সাথীকে হেফাজতে নেয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
আইনিসহায়তা পান পরবর্তী সময়ে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।
মন্তব্য করুন