ময়মনসিংহের ভালুকায় শ্যালকের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে তাঁকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ধলিয়া আজিমুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরী আশরাফুল আলমকে বরখাস্তের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের ধলিয়া গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক মো. ফখর উদ্দিন, হারুন অর রশিদ, সোহেল মণ্ডলসহ স্থানীয় অন্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের দপ্তরী আশরাফুল আলম তাঁর আপন শ্যালকের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে ওই নারীকে নিয়ে চলে গেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পারিবারিক এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিকভাবে অপমানিত বোধ করে আশরাফুল আলমের মেয়ে ও বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিশা আক্তার আত্মহত্যা করে মারা যায়। তাঁদের দাবি, এমন ঘটনার পর একজন বালিকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর দায়িত্ব পালন করা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে আদালতে দুটি মামলা রয়েছে বলে তাঁদের দাবি। তাঁরা অবিলম্বে তাঁকে দপ্তরী পদ থেকে বরখাস্তের দাবি জানান। অন্যথায় সন্তানদের ওই বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এদিকে আশরাফুল আলমের স্ত্রী সাবিনা খাতুন গণমাধ্যমকে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্বামীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মেয়ে মনিশা তার বাবাকে বলেছিল, ‘তোমার কারণে আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারব না।’
সাবিনা খাতুনের দাবি, এর জবাবে আশরাফুল তাঁর মেয়েকে বলেন, ‘মুখ দেখাতে না পারলে গলায় দড়ি দে।’ তাঁর অভিযোগ, বাবার মুখে এমন কথা শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তাঁদের মেয়ে আত্মহত্যা করে। এ ছাড়া আশরাফুল তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ধলিয়া আজিমুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রাহাত খান গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে তাঁকে কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ জানাননি।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠা কোনো ব্যক্তির বালিকা বিদ্যালয়ের দপ্তরী পদে দায়িত্ব পালন করা সমীচীন নয়। তিনি আরও জানান, দপ্তরী আশরাফুল আলম বর্তমানে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত) অবস্থায় রয়েছেন।
মন্তব্য করুন