ত্রিশালে শিশুকে বড়দের ওষুধ প্রেসক্রাইব, অভিভাবকদের ক্ষোভ

32

ত্রিশাল প্রতিনিধি :

ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর চিকিৎসায় ব্যবস্থাপত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত ওষুধ লিখে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির স্বজনদের দাবি, ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সাদিয়া আফরিন মৌসুমী এ ব্যবস্থাপত্র লিখেছেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির নাম মমিনুল ইসলাম। সে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে।

শিশুটির পরিবার জানায়, নানাবাড়ি ত্রিশাল অলহরী দুর্গাপুর গ্রামে বেড়াতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মমিনুলকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার প্রস্রাবে সংক্রমণ ধরা পড়লে কর্তব্যরত চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন। ফার্মেসির কর্মীরা ও পরিবারের এক নার্স সদস্য এসব ওষুধ শিশুর জন্য অনুপযুক্ত জানিয়ে আবারও অন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরে গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) একই হাসপাতালের আরেকজন চিকিৎসক আগের ব্যবস্থাপত্র ভুল বলে শিশুটির জন্য নতুন ব্যবস্থাপত্র দেন।

শিশুটির মা সেলিনা আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ভুল ওষুধ খাওয়ালে আমার সন্তানের বড় ক্ষতি হতে পারত। আল্লাহ বাঁচাইছে খাওয়ানোর আগেই জানতে পারছি। একজন ডাক্তার হয়েও শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে এমন অবহেলা করা ঠিক নয়। সরকারি হাসপাতাল হলেও বাইরে পরীক্ষা করাইছি। বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে আমার ৬০০ টাকা খরচ হয়েছে।’

শিশুটির জন্য দেওয়া ব্যবস্থাপত্র। ছবি: সংগৃহীত
শিশুটির জন্য দেওয়া ব্যবস্থাপত্র। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর মামা খায়রুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মাত্র সাড়ে তিন বছরের বাচ্চাকে কীভাবে এ ধরনের বড়দের ওষুধ দেওয়া হলো বুঝতে পারছি না। ডাক্তার কি ঘুমিয়ে প্রেসক্রিপশন করেছিলেন?’

এ বিষয়ে ত্রিশালের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের ডা. মেহেদী হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এই ডোজ অনুযায়ী এই ওষুধ সাড়ে তিন বছরের বাচ্চাদের দেওয়া উচিত নয়। শিশুদের জন্য সিরাপ দিতে হবে। নিনটোইন এসআর ১০০ মি.গ্রা. ক্যাপসুল ও প্যারাসিটামল ৫০০ এমজি ডোজ শিশুর দেহের সঙ্গে মানিয়ে যায় না। এটি মূলত কিশোর-প্রাপ্তবয়স্কদের ডোজ।’

অভিযুক্ত চিকিৎসক সাদিয়া আফরিন মৌসুমী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ রকম হওয়ার কথা নয়। হয়তো রোগীকে সরাসরি পাইনি বা রোগীর চাপে ভুলবশত এমনটি হয়ে থাকতে পারে।’

ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এস এম জিয়াউল বারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রেসক্রিপশনে ভুল হয়ে থাকলে সেটি দুঃখজনক, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। শিশুটিকে যে ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের হাসপাতালেই করা সম্ভব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here