খেলার মাঠে ডাম্পিং স্টেশন করার চেষ্টা, নির্মাণকাজে রেলের বাধা

29
খেলার মাঠে ডাম্পিং স্টেশন করার চেষ্টা, নির্মাণকাজে রেলের বাধা.নিজস্ব প্রতিবেদক : নগরীর কেওটখালিতে খেলার মাঠে সিটি করপোরেশনের অটোরিকশার ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ রেলওয়ের বাধার মুখে স্থগিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাঠে কাজ করতে গেলে বাধা দেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। পরে নির্মাণসামগ্রী ট্রাকে তুলে নিয়ে ফিরে যান শ্রমিকরা।

গত বুধবার সিটি করপোরেশনের ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কার্যাদেশ পায় বিসমিল্লাহ বিল্ডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মাহমুদুল হাসান খান সমকালকে জানান, জরুরী ভিত্তিতে তাকে কাজটি দেওয়া হয়েছে। এখন হঠাৎ করে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এসে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। আগেও ২-৩ দিন গিয়ে কাজ শুরু করতে পারেননি। এখন পর্যন্ত ১৫-২০ হাজার টাকা নষ্ট হয়েছে।

খেলার মাঠের বিষয়ে ঠিকাদার মাহমুদুল হাসান বলেন, সত্যি বলতে শহরে অনেক জায়গা থাকতে খেলার মাঠ বন্ধ করে ডাম্পিং স্টেশন তৈরি না করাই ভালো। কিছুদিন আগেও সার্কিট হাউজ মাঠের স্থাপনা ধরে নিয়ে বিশাল ঝামেলা তৈরি হয়েছিল। পরে সেই কাজটিও স্থগিত হয়েছে। বারবার এসব সেনসিটিভ জায়গায় কাজ করার আগে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত না নিলে বেকায়দায় পড়তে হয় সবারই।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের ভাষ্য, এই মাঠটি রেলওয়ের সম্পত্তি। কিছুদিন আগে সিটি করপোরেশন এখানে কাজ করতে এলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। জেলা প্রশাসক তখন জানান, রেলের সম্পত্তিতে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কেউ কাজ করতে পারবেন না।

রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান জানান, রেলওয়ের এই মাঠ ঈদগাহ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। সিটি করপোরেশন এই মাঠে সীমানা প্রাচীর তুলে অটোরিকশার ডাম্পিং স্টেশন করতে চায়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা জমিটি মেপে সুস্পষ্টভাবে মালিকানা নির্ধারণ করে দেবেন। এরপর থেকে আর কোনো সমস্যা হবে না বলে আশা করা যায়।

তবে ঈদগাহ মাঠ নামে পরিচিত হলেও সেখানে খেলাধুলা করে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে বসবাসকারী ও কেওটখালি এলাকার শিশু-কিশোররা। কাঁটাতারের বেড়াসহ সীমানা প্রচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এলাকার বাসিন্দা রায়হান উদ্দিন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে জেনে আসছি এই সম্পত্তির মালিক রেলওয়ে। এই এলাকায় খেলার কোনো মাঠ নেই। তাই ঈদগাহ মাঠটি আশপাশের সব এলাকার ছেলেরা খেলার মাঠে হিসেবে ব্যবহার করে। এছাড়া আশপাশের এলাকায় কেউ মারা গেলে এই মাঠে জানাজা হয়। কয়েক দিন আগেও সিটি করপোরেশন এই মাঠে ডাম্পিং স্টেশন করার চেষ্টা করেছিল। তখন আমরা বাধা দিয়েছি। তারা আবারও কাজ করার চেষ্টা করলে আমরা রুখে দাঁড়াবো।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব সুমনা আল মজিদের ভাষ্য, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক বলেছেন এই সম্পত্তি ১/১ এর। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এই সম্পত্তিতে ডাম্পিং স্টেশন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম বলেন, ‘এটা জেলা প্রশাসনের সম্পত্তি। জেলা যানজট কমিটির সভার সিদ্ধান্তে এখানে ডাম্পিং স্টেশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা দরকার।’

এ বিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের ম্যানেজার মহিউদ্দিন আরিফের ভাষ্য, কেওটখালির মাঠটি রেলের সম্পত্তি। সিটি করপোরেশন কিছুদিন পর পর এখানে ডাম্পিং স্টেশন করতে চায়। তারা রেলওয়ের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেয়নি। আবার এই মাঠটি ঈদগা এবং খেলার মাঠ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি এখন জেলা প্রশাসনের সম্পত্তি দাবি করাটা দুঃখজনক ব্যাপার।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ দেখবে। রোববার (আজ) আমাদের প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠাবো। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি শুরু হওয়ার জন্য আলোচনা করব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here