শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে খাবারের সন্ধানে বিচরণ করা বন্যহাতির পাল এখন মানুষের নতুন এক ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার আশায় তথাকথিত কনটেন্ট নির্মাতা ও উৎসুক ব্যক্তি হাতির পিছু নিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন। এ সময় পটকা ফাটানো, ঢিল ছোড়া ও নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় আতঙ্কিত ও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে হাতি। ফলে বাড়ছে মানুষ-হাতির সংঘাত এবং প্রাণহানির আশঙ্কা।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় মানুষ ও হাতির সংঘাতে ৩৪টি বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাতির আক্রমণসহ সংঘাতের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬ জন। দীর্ঘদিনের এ সংকটের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক নতুন এ প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জানা গেছে, জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি বনাঞ্চলে প্রায়ই এক টিলা থেকে অন্য টিলায় খাবারের সন্ধানে চলাচল করে বন্যহাতির দল। হাতির এ স্বাভাবিক বিচরণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি একশ্রেণির মানুষ তাদের পিছু নিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন।
শুধু ভিডিও ধারণেই থেমে থাকছেন না তারা; অনেক সময় পটকা ফাটিয়ে, ঢিল ছুড়ে কিংবা চিৎকার করে হাতিকে উত্ত্যক্ত করছেন। পরে এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাতিকে যত বেশি উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে, ততই তারা আতঙ্কিত ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। এতে হাতির তাড়া খেয়ে কিংবা আক্রমণের শিকার হয়ে মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের বালিজুড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত মাইকিং, প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। হাতি চলাচলের সময় স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।’
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি মানুষ ও বন্যহাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন