বারহাট্টা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার বারহাট্টায় এক নারীসহ তিনজনকে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। তবে পুলিশ জানিয়েছে, মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে নয়, দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় ‘অসামাজিক কাজে লিপ্ত’ থাকার অভিযোগে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে উপজেলার আসমা ইউনিয়নের মনাষ গ্রামের অন্তু মিয়ার ফিশারির পাড়ে একটি টিনশেড ঘর থেকে স্থানীয়রা ওই তিনজনকে আটক করেন। পরে তাদের বারহাট্টা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন-কলমাকান্দা উপজেলার আজগর আলীর মেয়ে খুকুমণি (২৬), বারহাট্টা উপজেলার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুল মুমেন (২৮) এবং কলমাকান্দা উপজেলার সিকিম আলীর ছেলে কবির মিয়া (২৭)।
স্থানীয়দের দাবি, ওই টিনশেড ঘরে তারা মাদক সেবন করছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের ধারণ করা একটি ভিডিওতেও খুকুমণিকে মাদক সেবনের বিষয়ে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে ভিডিওটির বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, খুকুমণি ভিডিওতে নিজেকে নিয়মিত মাদকসেবী হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, আব্দুল মুমেনের সঙ্গে তার আগে থেকেই পরিচয় রয়েছে। মুমেনের বন্ধু কবিরের সঙ্গে সেখানে যাওয়ার পর মুমেন চারটি ইয়াবা বের করে দিলে তারা সেগুলো সেবন করেন বলেও তিনি দাবি করেন। এ সময় হানিফ মিয়া নামে আরও একজন সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আব্দুল মুমেনের কাছ থেকে মাদক সরবরাহের বিষয়ে এলাকাবাসীর সামনে বক্তব্য নেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমুল হুদা (ময়না মেম্বার) বলেন, খবর পেয়ে তিনি থানায় জানান। পরে তিনজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এলাকায় মাদকসেবীদের এমন কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থানীয়দের নিয়ে সভা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী তামিম খন্দকার বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, আব্দুল মুমেন প্রায়ই ওই টিনশেড ঘরে বহিরাগতদের নিয়ে আসতেন।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে চারজন ছিলেন বলে তাঁরা দেখতে পান। স্থানীয়রা সেখানে গেলে হানিফ মিয়া পালিয়ে যান। পরে এক নারীসহ তিনজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দামকে মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে মাদক মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বার্তায় জানান, আটক ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বারহাট্টা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে একটি টিনশেড ঘর থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মাদক সেবনের অভিযোগ ও মাদকের আলামত থাকার দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এসআই মেহেদী হাসান বলেন, আমরা ওই রকম কোনো আলামত পাইনি।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক সেবনের বিষয়ে ভিডিওতে বক্তব্য এবং মাদকের আলামত থাকার দাবি থাকা সত্ত্বেও মাদকসংক্রান্ত ধারায় মামলা না হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশের আইনগত পদক্ষেপ ও তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন