অনলাইন ডেস্ক : কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর গাড়ি আটকিয়ে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বরসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশে বরযাত্রী নিয়ে একটি গাড়ি যাচ্ছিল। পথে গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কয়েকজন যুবক গাড়িটি আটকিয়ে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ নিয়ে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কাজলের লোকজনের সঙ্গে বারঘড়িয়া এলাকার আশকর আলীর বংশের বরপক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে বরযাত্রীর গাড়ি আটকিয়ে টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে হাতাহাতির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে দেশি অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে বর মো. হানিফ, তাঁর বাবা হবি মিয়াসহ দুই পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা এড়াতে পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন